মনশুকা, ১০ই মার্চ, ২০২৫: বলাইদা আর নেই। পুরো নাম অরুপ দে (বলাই মালাকার)। তবে তাকে সবাই বলাইদা নামেই চেনেন । যেন বিশ্বাসই করা যাচ্ছে না। পাড়ার প্রতিটি অলিগলি, প্রতিটি গৃহস্থের রান্নাঘর যেখানে তাঁর চেনা হাসি, ক্লান্তিহীন পায়ের শব্দের সাথে পরিচিত, সেখানেই আজ এক অদ্ভুত নৈঃশব্দ্য। যে মানুষটি দিনের শুরু থেকেই হাতে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে বেরোতেন এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি, রাত-বিরেতে কোনো ফোন এলে দ্বিধাহীনভাবে ছুটে যেতেন, সেই বলাইদা আর কোনোদিন এই রাস্তাগুলোতে হাঁটবেন না।
তিনি শুধু গ্যাস সরবরাহকারী ছিলেন না, ছিলেন এক অদম্য খেলোয়াড়ও। দৌড় প্রতিযোগিতায় তিনি ছিলেন অদম্য। বিশেষ করে ম্যারাথন দৌড়ে ছিল তাঁর অসামান্য দক্ষতা। একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ট্রফি জিতেছিলেন, পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন একাধিক মোবাইল ফোন। সেগুলোই থাকত তাঁর হাতে—প্রতিটিই যেন তাঁর সাফল্যের একেকটি সাক্ষী। কিন্তু সব কথার মাঝেও একটা দায়িত্ববোধ ছিল তাঁর। গ্যাস নিয়ে কোনো সমস্যা হলে মধ্যরাতেও ফোন ধরতেন, বেরিয়ে পড়তেন সেই একটিই বাক্য নিয়ে— "চিন্তা কোরো না, আসছি!"
অথচ আজ আর সেই আশ্বাসবাণী শোনা যাবে না। হঠাৎই যেন সব কিছু স্তব্ধ হয়ে গেল। বলাইদা চলে গেলেন, কাউকে কিছু বলারও সময় দিলেন না। কাল পর্যন্ত যাঁর চলাফেরায় কোনো ক্লান্তি ছিল না, আজ তিনি অনন্ত যাত্রায় পাড়ি দিলেন।
পাড়ার প্রতিটি ঘরে আজ তাঁর শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে। দুপুরে হোক বা সন্ধ্যায়, রান্নাঘরের চুলা জ্বালাতে গিয়ে অনেকে থমকে যাচ্ছেন। বলাইদার অদ্ভুত এক শক্তি ছিল, কারো বাড়ির রান্নার গ্যাস শেষ হলে, তিনিই ছিলেন শেষ ভরসা। অথচ আজ সেই মানুষটিই অনুপস্থিত।
কিছুদিন ধরে ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বলাইদার মৃত্যুতে গোটা এলাকা আজ স্তব্ধ। এই শূন্যতা কোনোদিনও পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর স্মৃতি আজীবন আমাদের মনে গেঁথে থাকবে।