শ্যামল রং, ঘাটাল: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল (২৩১) কেন্দ্রে বিদায়ী বিধায়ক শীতল কপাটের ওপরেই পুনরায় আস্থা রাখল ভারতীয় জনতা পার্টি। গত পাঁচ বছরের কাজের খতিয়ান এবং শিলাবতী পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়ার ডালি সাজিয়ে ফের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন তিনি। গত নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের দাপট রুখে দিয়ে পদ্ম ফুটিয়েছিলেন শীতল। এবার সেই জয়ের ধারা বজায় রাখাই তাঁর কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজেপির অন্দরমহলে শীতল কপাট অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং মাটির কাছাকাছি থাকা জননেতা হিসেবেই পরিচিত। গত পাঁচ বছরে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান থেকে শুরু করে এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। পেশায় শিক্ষক শীতলের সহজ-সরল জীবনযাপন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগই রাজনৈতিক ময়দানে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দেয়। এবারও তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অভিমুখ মূলত রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে ‘ব্যর্থতা’ এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সওয়াল।
নির্বাচনী রণকৌশলে বিজেপি এবার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পথে হাঁটছে। শীতলের প্রচারে সবথেকে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। দশকের পর দশক ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপড়েনের মাঝে ঘাটালের মানুষের দুর্ভোগকে হাতিয়ার করছেন তিনি। বর্ষায় শিলাবতীর প্লাবন এবং তার ফলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিজেপি শিবির। পাশাপাশি পিএম কিষাণ নিধি বা আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি কেন এই রাজ্যের মানুষ পূর্ণাঙ্গভাবে পাচ্ছেন না, তা নিয়ে ঘরে ঘরে প্রচার শুরু করেছেন বিদায়ী বিধায়ক।
তবে এবারের লড়াই ২০২১-এর তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। একদিকে বামেদের পক্ষ থেকে এক তরুণ শিক্ষককে প্রার্থী করে শিক্ষিত ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের আবহে শীতল কপাটের প্রধান পুঁজি হলো তাঁর ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। এলাকায় ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে তাঁর যে পরিচিতি রয়েছে, তাকেই ঢাল করে শাসকদলের দুর্নীতির অভিযোগ এবং কর্মসংস্থানের অভাবের মতো বিষয়গুলোকে সামনে আনছেন তিনি। বিশেষ করে এলাকার যুবকদের ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার সমস্যা মেটাতে শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছে পদ্মশিবির।
শিলাবতী ও কেঠিয়া নদীর পলি জমে যাওয়ার মতো প্রাকৃতিক সমস্যা থেকে শুরু করে গ্রামীণ অর্থনীতির বেহাল দশা— এই সব ইস্যুর সমাধানই এখন শীতলের প্রচারের কেন্দ্রে। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁর বিধায়ক থাকাকালীন কাজের খতিয়ান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, বিজেপি অনড় তাদের প্রার্থীর জনপ্রিয়তায়। শেষ পর্যন্ত ঘাটালের মানুষ বিদায়ী বিধায়ককে পুনরায় আশীর্বাদ করেন কি না, এখন সেটাই দেখার। আপাতত প্রচারের উত্তাপে শিলাবতী পাড়ের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।
