ঘাটালে বামেদের বাজি শিক্ষক শান্তিনাথ, শিলাবতী পাড়ে কি হারানো জমি ফিরবে কাস্তে-হাতুড়ির?

শ্যামল রং, ঘাটাল: পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে এবার বড় চমক দিল আলিমুদ্দিন। ঘাটাল বিধানসভা (২৩১) কেন্দ্রে বামফ্রন্টের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষক শান্তিনাথ সাতিকের হাতে। দীর্ঘদিনের ছাত্র রাজনীতি, অধ্যাপক হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে শিক্ষকতার সূত্রে জনভিত্তি— এই ত্র্যহস্পর্শেই এবার জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাম শিবির। গত কয়েক বছরে জেলায় বামেদের রক্তক্ষরণ যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শান্তিনাথের মতো স্বচ্ছ ও শিক্ষিত মুখকেই সেরা বাজি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।


ঘাটাল কলেজের প্রাক্তন জিএস (GS) হিসেবে শান্তিনাথ সাতিকের পরিচিতি আজকের নয়। একসময় এসএফআই-এর জেলা কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজপথের লড়াইয়ে সামনের সারিতে দেখা যেত তাঁকে। তবে কেবল মাঠের রাজনীতিতেই তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি, মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন শিক্ষা জগতেও। ঘাটাল কলেজের প্রাক্তন পার্ট-টাইম অধ্যাপক শান্তিনাথ বর্তমানে বীরসিংহ ভগবতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক। রাজনীতির ময়দানে তাঁর এই ‘মাস্টারমশাই’ ইমেজ সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তৃণমূল ও বিজেপির দ্বৈরথে ক্লান্ত ভোটারদের কাছে একজন আদর্শবান ও লড়াকু প্রাক্তন ছাত্রনেতার উপস্থিতি নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

 শান্তিনাথ সাতিক তাঁর প্রচারে শিক্ষায় দূর্নীতি মূল হাতিয়ার করছেন। পাশাপাশি কৃষিপ্রধান এই এলাকায় ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং কর্মসংস্থানের অভাবে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। শাসকদলের দুর্নীতির অভিযোগ আর বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির ভিড়ে শান্তিনাথ তুলে ধরছেন রুটি-রুজির প্রশ্ন।

তবে পথটা যে খুব মসরুণ, তা বলা চলে না। ২০২১-এর নির্বাচনে এই কেন্দ্রে পদ্মশিবির জয়লাভ করেছিল। এবারও শাসকদল তৃণমূল এবং বিজেপি— দুই পক্ষই তাদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে। শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো এবং জনমোহিনী প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে তৃণমূল যেমন জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া, তেমনই বিজেপিও তাদের আসন ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। এই দুই হেভিওয়েট শক্তির মাঝে দাঁড়িয়ে শান্তিনাথ সাতিকের লড়াই মূলত নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং বামেদের হারানো  বাহিনীকে পুনরুজ্জীবিত করার।

প্রচার পর্বে ইতিমিধ্যেই শান্তিনাথকে নিয়ে বাম কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এলাকায় চেনা মানুষ, তার ওপর শিক্ষক হিসেবে স্বচ্ছ ইমেজ— এই জোড়া ফলায় ভর করে কি ঘাটাল বিধানসভায় লাল আবির উড়বে? উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত শিলাবতী পাড়ের চায়ের আড্ডায় আলোচনা একটাই— শান্তিনাথের লড়াকু মেজাজ কি পারবে যুযুধান দুই শিবিরকে টেক্কা দিয়ে কাস্তে-হাতুড়ির পুনরুত্থান ঘটাতে?


Shyamal Kumar Rong

আমি মনসুকা খবরের এডিটর। মনসুকা খবরে আপনি যেকোনো খবর, ভিডিও, তথ্য বা গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আপনার তথ্য আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ: ৯৭৭৫৭৩২৫২৫

Previous Post Next Post
Mansuka Khabar

বিজ্ঞাপন

Mansuka Khabar